
স্টাফ রিপোর্টার:
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় আলমগীর হোসেন (৪০) নামে এক যুবককে পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। মামলা ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য চোর সন্দেহে হত্যা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। থানায় নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করলেও অপরাধীদের নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাত আসামী দিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অপরাধীরা নিহত আলমগীরের পরিবারের উপর বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি প্রদান করছে বলে অভিযোগ নিহত আলমগীরের বোন জাহানারা বেগমের।
মামলার বাদী নিহত আলমগীরের মা মছিরন নেছা জানান যে, আমার ছেলে দির্ঘদিন বিদেশে ছিলেন, দেশে আসার পর আমার ছেলের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে, চাঁদা দিতে অস্বীকার করায়, চৌগাছা উপজেলার মাশিলা লক্ষনপুর বিজিবি ক্যাম্পের কাছে ডেকে নিয়ে গত ২১/০৩/২০২৬ তারিখে অনুমান ২টা ৩০ মিনিটের সময় ফজলুর রহমান ওরফে ফজলু (৩৯) পিতা কেনাই মন্ডল ওরফে টেনা মন্ডলের বাড়িতে আটকে রেখে চঞ্চল (৩২) পিতা রশিদ ওরফে মেজো খোকন গ্রাম মাশিলা লক্ষিপুর,আমর ছেলেকে হাত পা বেধে অনমানবিক নির্যাতন করতে থাকে। এ সময় ঘটনা স্থলে উপস্থিত থেকে আরাফাত (৪০) পিতা সলেমান, বিদ্যুৎ (৩৮) পিতা সামাদ মাষ্টার উভয়ে আমার ছেলেকে মেরে ফেলার নির্দেশ দেয়। উক্ত নির্দেশ পেয়ে চঞ্চল আমার ছেলের বুকের উপর লোহার শাবল দিয়ে একাধিক আঘাত করে এবং প্লাস দিয়ে তা পায়ের নখ উপরে ফেলে আর্ধমৃত্য অবস্থায় তুহিন(৪২) পিতা আলী বিশ্বাস গ্রাম মাশিলা কাঠের বাটাম ও বাসের লাঠি দ্বারা পিটাইতে থাকে তারা আমার সন্তানকে মৃত মনে করে ফেলে রেখে যায়। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখান থেকে তাকে যশোর ২৫০ শয়্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরের দিন মৃত্যুবরন করে।
এমতাবস্থায় ছেলের মৃত্যুতে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমি চৌগাছা থানায় আমার ছেলে হত্যার আসামিদের নাম দিয়ে মামলা করতে গেলে, থানা থেকে মামলা নিতে অস্বীকার করে, পরে পুলিশ অজ্ঞাত আসামি দিয়ে মামলা গ্রহণ করে।আমার ছেলের মৃত্যুর এক মাস পার হয়ে গেলেও একজন আসামিও গ্রেফতার হয়নি। আসামীরা আমাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিচ্ছেন। আমি যদি তাদের নামে মামলা করি তাহলে তারা আমার সন্তানের মত আমার নাতি দুটোকে ও আমাকে হত্যা করবে।
এই মামলার তদন্তকারী অফিসার মিজানর কাছে আমার মেয়ে মামলার অবস্থা জানতে চাইলে এবং আসামি ধরছেন না কেন,এমন প্রশ্ন করলে, তিনি জানান আপনাদের কাছে, আপনার ভাইকে হত্যা করেছে এমন কোন ভিডিও ফুটেজ আছে। আপনার ভাইকে চুরি করতে যাওয়াই তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তখন আমার মেয়ে তাকে বলে আপনি কি দেখেছেন আমার ভাই চুরি করতে গেছে। উত্তরে তিনি বলেন মামলা তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ হলে দেখা যাবে বলে ফোন কেটে দেন।
নিহত আলমগীরের স্ত্রী স্বপ্না বেগম জানান, আমি আমার স্বামীকে হারিয়ে দুইটা মেয়ে সন্তান নিয়ে মানবতার জীবন যাপন করছি, আমি এই মামলার সুষ্ঠ বিচার চাই, সন্তান দুইটা নিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সুষ্ঠ বিচার না পেলে আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন উপায় নেই। বর্তমান সরকারের প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এই মামলার তদন্ত অফিসার এসআই মিজানের কাছে আমাদের প্রতিবেদক মামলার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই মামলার তদন্ত চলছে, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আসে নাই।