1. admin@dailyjessorersangbad.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাদশাহ ফয়সাল ইসলামী ইনস্টিটিউটের নতুন সভাপতি ময়নাকে সংবর্ধনা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় আবাসিক ভবনে মবিল প্যাকেটজাত, যশোরে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ার অভিযোগ হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে যশোরে সচেতনতামূলক সেমিনার উপশহর পেশাজীবী ফোরামে চিকিৎসা বুথ, অসহায়দের বিনামূল্যে পরীক্ষার উদ্যোগ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ভালোবাসার ব্যতিক্রমী আয়োজন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে প্রণোদনা সামগ্রী বিতরণ শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে শার্শা যুবদল নেতাকে অব্যাহতি সাংবাদিক শাহিনুর রহমান সোনাকে প্রাণনাশের হুমকি, তৃণমূল প্রেস সোসাইটির যশোর জেলা আহবায়ক কমিটির নিন্দা প্রসূতির মৃত্যুতে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ, জীবিত নবজাতক উদ্ধার চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন ডা. ফাতিমা আক্তার পরিবারের অভিযোগ, তদন্তের অপেক্ষা লালমনিরহাটে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ সারের দাবিতে যশোরে পৈত্রিক ভিটা উচ্ছেদের অভিযোগের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন রামপালে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি ও শুভেচ্ছা বিনিময়

আবাসিক ভবনে মবিল প্যাকেটজাত, যশোরে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ার অভিযোগ

দৈনিক যশোরের সংবাদ ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার, যশোরঃ

যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর-বালিয়াডাঙ্গা ও মান্দারতলা এলাকায় আবাসিক ভবনে খোলা বা লুজ মবিল এনে বিভিন্ন নামে প্যাকেটজাত ও বাজারজাত করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, যশোরের বিভিন্ন এলাকাতেও ছোট পরিসরে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর পেছনে একটি প্রভাবশালী চক্র বা সিন্ডিকেট জড়িত থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝুমঝুমপুর-বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় নায়েব ফারুকের বাড়ির পাশে একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় ‘আর জে এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে লুজ মবিল এনে প্যাকেটজাত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রোপ্রাইটর হিসেবে সিহাব হোসেন, পিতা বাবুল হোসেনের নাম জানা গেছে।

লুজ মবিল এনে বিভিন্ন নামে বাজারজাতের অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, খোলা বাজার থেকে লুজ মবিল সংগ্রহ করে বিভিন্ন বোতল ও প্যাকেটে ভরে ‘সুপার স্পোর্টস লুব্রিকেন্ট’ ও ‘ইঞ্জিন অয়েল ফোরটি’সহ বিভিন্ন নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব পণ্য যশোরের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করা হচ্ছে।

তবে এসব পণ্য প্রকৃতপক্ষে ভেজাল কি না, কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পণ্য প্যাকেটজাত ও বাজারজাতের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়েছে কি না তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

‘লুজ মবিল কিনে প্যাকেট করে বাজারজাত করি’

অভিযোগের বিষয়ে আর জে এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর সিহাব হোসেন জানান, তিনি যশোর শহরের মনিহারের পাশে জিসান এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর মো. রহিমের কাছ থেকে মবিল সংগ্রহ করেন এবং তা প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করেন।

তবে পণ্য প্যাকেটজাত ও বাজারজাত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় BSTI-এর অনুমোদন বা প্রযোজ্য মানসনদ, মোড়কজাতকরণ-সংক্রান্ত নিবন্ধন এবং পরিবেশগত অনুমোদন রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

পরিবেশ অধিদপ্তর: অভিযোগ পেয়েছি, তথ্য পেলে ব্যবস্থা

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, যশোরের সহকারী পরিচালক বলেন, এ ধরনের অভিযোগ তাদের কাছে এসেছে। আবাসিক এলাকায় তেলজাতীয় পদার্থ নিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি জানান, এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বায়ু ও পরিবেশ দূষণসহ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যশোরে এর আগেও অনুমোদনহীনভাবে মবিল উৎপাদন, প্যাকেটজাত ও বাজারজাতের অভিযোগে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে জেল-জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউএনও: সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে দ্রুত ব্যবস্থা

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক বলেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভেজাল বা নিম্নমানের মবিল গাড়ির ইঞ্জিনের জন্য ক্ষতিকর হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

তিনি বলেন, আবাসিক এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে কোনো ক্ষতিকর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগেও অভিযান, এরপরও অভিযোগ

স্থানীয়দের দাবি, যশোরে এর আগেও ভ্রাম্যমাণ আদালত, র‍্যাব, পুলিশ ও প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে অনুমোদনহীনভাবে মবিল উৎপাদন, প্যাকেটজাত ও বাজারজাতের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে জেল-জরিমানাসহ বিভিন্ন ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

তাদের দাবি, একটি স্থানে অভিযান পরিচালনার পর সংশ্লিষ্টরা স্থান পরিবর্তন করে অন্যত্র একই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

‘ব্যাঙের ছাতার মতো’ গড়ে ওঠার অভিযোগ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, যশোরের বিভিন্ন এলাকায় ছোট পরিসরে মবিল প্যাকেটজাতের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ছে। বাজার থেকে লুজ মবিল সংগ্রহ করে বিভিন্ন নাম বা ব্র্যান্ডের প্যাকেটে ভরে বাজারজাত করা হচ্ছে বলেও তাদের দাবি।

স্থানীয় বাসিন্দা রানা বলেন, “এভাবে খোলা মবিল এনে প্যাকেট করে বিক্রি করা বৈধ কি না, সেটি কর্তৃপক্ষের তদন্ত করা উচিত। মবিলের মান নিম্নমানের হলে গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ার অভিযোগ

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, যশোরে লুজ মবিল সংগ্রহ, প্যাকেটজাত ও বাজারজাতের সঙ্গে একটি প্রভাবশালী চক্র জড়িত থাকতে পারে। তাদের দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় কোথাও কোথাও এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কারণে তা সহজে বন্ধ হচ্ছে না।

এদিকে গোপন সূত্রের বরাতে অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কথিত মাসোহারা আদায় করা হয়। তবে এ দাবির পক্ষে প্রতিবেদনের সময় কোনো নথি, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া প্রশাসন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও কেউ কেউ করেছেন। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট পুলিশ, প্রশাসন ও সাংবাদিকদের বক্তব্যও এ বিষয়ে পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রমের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগের তালিকায় হামিদপুর, বাউলিয়া, মান্দারতলা, ঢাকা রোড, হুশতলা, বকচর, রাজারহাটসহ যশোরের বিভিন্ন এলাকার নাম রয়েছে। তবে এসব এলাকার প্রতিটি স্থানে একই ধরনের কার্যক্রম চলছে কি না, তা সরেজমিন তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, আবাসিক এলাকায় তেলজাতীয় পদার্থ সংরক্ষণ ও প্যাকেটজাত করা হলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি অগ্নিঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

BSTI অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয়দের দাবি, আর জে এন্টারপ্রাইজে মবিল প্যাকেটজাত ও বাজারজাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য BSTI অনুমোদন, মানসনদ, মোড়কজাতকরণ-সংক্রান্ত নিবন্ধন এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হোক।

একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র, পণ্যের মান, প্যাকেটের লেবেল, মবিলের উৎস এবং প্যাকেটজাতকরণ প্রক্রিয়া পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পুরো সরবরাহব্যবস্থা তদন্তের দাবি

এলাকাবাসীর দাবি, BSTI, পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধতা যাচাই করা হোক।

একই সঙ্গে লুজ মবিলের সরবরাহকারী, প্যাকেটজাতকারী, পরিবেশক, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের বিষয়ে অনুসন্ধান করে পুরো সরবরাহব্যবস্থার উৎস শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের দাবি, কোনো প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র, অবৈধ অর্থ আদায় বা প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা হোক।

উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে মবিলের ‘ভেজাল’, সিন্ডিকেট, মাসোহারা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ার বিষয়গুলো অভিযোগ ও সূত্রের বরাতে তুলে ধরা হয়েছে। পণ্যটি ভেজাল বা নিম্নমানের কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নমুনা পরীক্ষা ও নথিপত্র যাচাই প্রয়োজন। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান, পুলিশ, প্রশাসন, BSTI এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক যশোরের সংবাদ
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park