দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা যশোরে কয়েকদিন ধরেই চলছে তীব্র তাপদাহ। দিনের পর দিন বাড়তে থাকা গরমে জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। সোমবার জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। সকাল থেকেই খরতাপ ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় মানুষকে হাঁসফাঁস অবস্থায় দিন পার করতে দেখা গেছে।
দুপুর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তাপ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। শহরের ব্যস্ত সড়ক, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কমে যায়। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। বিশেষ করে দুপুরের সময় শহরের পরিবেশ অনেকটাই নির্জন হয়ে পড়ে।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর ও নির্মাণশ্রমিকদের প্রচণ্ড রোদে কাজ করতে দেখা গেছে কষ্টের মধ্যে। অনেকেই কিছুক্ষণ পরপর গাছের ছায়া কিংবা দোকানের সামনে থেমে বিশ্রাম নিচ্ছেন। কেউ কেউ মাথায় ভেজা গামছা দিয়ে গরম থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন।
অতিরিক্ত গরমের কারণে শহরে বেড়েছে ঠান্ডা পানি, শরবত, ডাব ও আইসক্রিমের চাহিদা। শহরের বিভিন্ন মোড় ও সড়কের পাশে থাকা ভ্রাম্যমাণ শরবতের দোকানগুলোতে সকাল থেকেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। বিক্রেতারা জানান, গত কয়েকদিনের তুলনায় এখন গরমের তীব্রতা অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। ফলে বিক্রিও বেড়েছে কয়েকগুণ।
এদিকে তীব্র তাপদাহের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও। স্কুল কলেজে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বেড়েছে। অনেক অভিভাবক শিশুদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে যেতে নিষেধ করছেন।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েকদিন যশোর অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। তবে সন্ধ্যার পর কোথাও কোথাও বজ্রসহ হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও গরম পুরোপুরি কমার সম্ভাবনা আপাতত নেই।
চিকিৎসকরা এই তীব্র গরমে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং দীর্ঘ সময় রোদে অবস্থান না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি হিটস্ট্রোক এড়াতে হালকা খাবার গ্রহণ ও পর্যাপ্ত বিশ্রামে থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।