1. admin@dailyjessorersangbad.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে খুলনা রেঞ্জের ২৮ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার যশোরে ১৫ টাকা কেজির সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, ডিলারের কাগজপত্র জব্দ বাঘারপাড়ায় পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনের মামলায় আসামি গ্রেপ্তার যশোরে গভীর রাতে বাড়িতে প্রবেশ, আহত অবস্থায় হাসপাতালে আটক ব্যক্তি যশোরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য যুব সমাবেশর মধ্য দিয়ে পালিত।  চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ এর শেষ রক্ষা হলো না, অবশেষে বদলি।  নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, কাজী বাবুল।  যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করতে কেশবপুরে প্রস্তুতি সভা যশোরের চৌগাছায় শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সৎ বাবা গ্রেফতার। যশোরের দায়তলা কালীমন্দির পরিদর্শনে ইউএনও শাহরিয়ার হক ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ যশোর টাউন হল মাঠে ২৭ অক্টোবর পবিত্র আজিমুশশান ইসলামী জলসা

মিথ্যা ঘোষণায় যশোর বেনাপোল বন্দরে কোটি কোটি টাকার শেভিং ব্লেড প্রবেশ

দৈনিক যশোরের সংবাদ ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৪৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বেনাপোল থেকে :- কল্যান রায় জয়ন্ত :

দেশে বৈধভাবে শেভিং ব্লেড আমদানি বন্ধ থাকলেও মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে বৈধ ও অবৈধ উভয় পথেই নিয়মিতভাবে প্রবেশ করছে বিপুল পরিমাণ শেভিং ব্লেডের চালান। এতে একদিকে যেমন দেশীয় শিল্প হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বেনাপোল কাস্টমসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের হাতে মাঝে মধ্যে কিছু চালান ধরা পড়লেও অধিকাংশ চালানই বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে দেশের অভ্যন্তরে পাচার হয়ে যাচ্ছে।
তথ্যানুসারে, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বেল ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর জিলেট ইন্ডিয়ার সঙ্গে তাদের অফিসিয়াল ডিস্ট্রিবিউশন চুক্তি বাতিল করে। এরপর থেকে বৈধ আমদানি বন্ধ থাকলেও বাজারে জিলেট শেভিং ব্লেডের সরবরাহ কমেনি। বরং সীমান্তের বৈধ ও অবৈধ পথ ব্যবহার করে চোরাচালানের মাধ্যমে এসব পণ্য দেশে প্রবেশ করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোরের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলের খুচরা দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে এসব অবৈধ ব্লেড। বৈধ আমদানি বন্ধ থাকার পরও পাইকাররা কীভাবে এসব পণ্য সংগ্রহ করছেন, সে বিষয়ে দোকানদাররা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আমদানিকারক উজ্জ্বল জানান, যারা নিয়ম মেনে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কাঁচামাল আমদানি করে দেশে উৎপাদন করছেন, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অবৈধ পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
বেনাপোল বন্দরের আমদানিকারক ইদ্রিস আলী বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই কালোবাজার আরও বিস্তৃত হবে এবং দেশীয় শিল্পের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব খাতেও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সাকিব রায়হান জানান, গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর আশিকুল ইসলাম অ্যান্ড সন্স নামে এক আমদানিকারক ভারত থেকে ‘স্টিল আইটেম অ্যান্ড আদার্স’ ঘোষণায় ৩০ হাজার ৮৩৮ কেজি পণ্য তিনটি ট্রাকে নিয়ে আসেন। ম্যানিফেস্ট নম্বর ৬০১/২০২৫/০০৩/০০৬১২৪৭/০৯। ট্রাক নম্বর ছিল ডব্লিউবি ০২সি-৫৯২১, ডব্লিউবি ৩৩ডি-১০২৭ ও ডব্লিউবি ১১সি-৩১৩৩। চালানটির সিএন্ডএফ এজেন্ট ছিল হুদা ইন্টারন্যাশনাল।
এছাড়া পহেলা সেপ্টেম্বর ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে বাংলাদেশগামী একটি ট্রাক তল্লাশি করে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের মিথ্যা ঘোষণার পণ্য আটক করে পেট্রাপোল কাস্টমস। ওই চালানের আমদানিকারক ছিলেন বেনাপোলের ব্যবসায়ী হাসানুজ্জামানের মালিকানাধীন মেসার্স জামান ট্রেডার্স। ভারতীয় কাগজপত্রে ১৬টি চালানকে মোটরসাইকেল পার্টস হিসেবে ঘোষণা করা হলেও ট্রাকগুলোতে পাওয়া যায় জিলেট ব্লেডের বড় চালানসহ মেডিসিন, ট্রিমার, শাড়ি, ফেব্রিক্স, ইমিটেশন জুয়েলারি, মূর্তি, হাতঘড়ি, চাদর, তালা, থ্রি-পিস, জুতা ও সেলুন সামগ্রীসহ নানা পণ্য।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিতে বেনাপোল বন্দরে গড়ে ওঠা কথিত ‘ভাই ভাই সিন্ডিকেট’-এর মাধ্যমেই দেশে প্রবেশ করছে মিথ্যা ঘোষণার বিভিন্ন নিষিদ্ধ ও উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য। এ তালিকায় রয়েছে শেভিং ব্লেড, অস্ত্র, নেশাজাতীয় ওষুধ, সাপের বিষ, মোবাইল ও মোবাইল ডিসপ্লে। তবে এই চক্র এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কয়েকটি চালান আটক হলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক যশোরের সংবাদ
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park