
স্টাফ রিপোর্টার যশোর
একসময়ের প্রমত্তা মুক্তেশ্বরী নদী আজ দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনার কারণে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য এক চরম সংকটের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীটি বাঁচাতে এবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন যশোর ও মণিরামপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ। সোমবার দুপুরে মণিরামপুরের বলিয়ানপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় নদী রক্ষা আন্দোলনের অংশ হিসেবে এক বিশাল মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়ন ও রামনগর ইউনিয়ন এবং মণিরামপুর উপজেলার ভোজগাতি ইউনিয়ন, ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন ও হরিদাসকাঠি ইউনিয়ন এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক মানুষ। সভায় বক্তারা বলেন, অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলা ও দখলদারিত্বের কারণে কৃষি ব্যবস্থা ও জনজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা একবাক্যে দাবি জানান নদী বাঁচলে মানুষ বাঁচবে। কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ইফতেখার সেলিম অগ্নি-এর নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে স্থানীয়রা রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে শামিল হয়েছেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রামনগর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল আজিজ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জি. এম. মিজানুর রহমান, রামনগর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মারুফ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার মোসলেম উদ্দিন এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম ও ৫নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি আজিবার রহমান মনুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।সভায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, দখল ও দূষণের কারণে মুক্তেশ্বরী নদী তার স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে কৃষি, মৎস্য ও দৈনন্দিন জীবনে। তারা দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান। আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে একটি চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ২৭ মার্চ ২০২৬, শুক্রবার বিকাল ৫টায় হরিনার বিল-এর পাড়ে ‘ক্যাফে বিল হরিনা’ প্রাঙ্গণে পরবর্তী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সম্মিলিত এই সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্তেশ্বরী নদী আবারও তার হারানো যৌবন ফিরে পাবে এবং টিকে থাকবে এ অঞ্চলের জীবন-জীবিকার অন্যতম উৎস হিসেবে।