
স্টাফ রিপোর্টার যশোরঃ
যশোর শহরের নীলগঞ্জ শাহাপাড়া এলাকায় অবস্থিত আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়্যাহ, যশোর-এ অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের ভিডিও ধারণ, জিজ্ঞাসাবাদ এবং শিক্ষক ও এক নারী অভিভাবকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে এক নারী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মাদ্রাসাটির এক শিক্ষক।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দায়ের করা অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষক নাছির উদ্দিন জানান, সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে অনন্যা নামে এক নারী দুই সহযোগীকে নিয়ে অনুমতি ছাড়াই মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি একজন ছাত্র ও একজন ছাত্রীর ভিডিও ধারণ করে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। এতে শিক্ষার্থীরা ভীত হয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে বিষয়টি জানতে চাইলে অভিযোগকারী শিক্ষককে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে আসা হয়। পরে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে অনন্যার বাবা গোলাম রসুল মাদ্রাসায় এসে অভিযোগকারী শিক্ষককে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন এবং মাদ্রাসা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি তার মেয়েকে মারধরের একটি ভিডিও থাকার দাবি করলেও উপস্থিত শিক্ষকরা ভিডিওটি দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর কিছুক্ষণ পর অনন্যা পুনরায় মাদ্রাসায় এসে এক শিক্ষককে থাপ্পড় মারেন, উপস্থিত এক ছাত্রের মা রেক্সেনা খাতুনকে তলপেটে লাথি দেন এবং অভিযোগকারী শিক্ষককে মারধরের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। একপর্যায়ে হাতে থাকা একটি তালা দিয়ে রেক্সেনা খাতুনের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক তার মাথায় তিনটি সেলাই দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী শিক্ষক জানান, এ ঘটনার ফলে মাদ্রাসার স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাদ্রাসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত অনন্যা বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে সংবাদে সংযোজন করা হবে।