
স্টাফ রিপোর্টার, যশোর:
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার এক অসহায় ভ্যানচালকের ৯ বছর বয়সী শিশু আরাফাত হোসেন আজ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। একসময় বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা, স্কুলে যাওয়া আর সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্নে বিভোর থাকা এই শিশুর হার্ট ও ফুসফুসে টিউমার ধরা পড়ায় তার স্বাভাবিক জীবন থমকে গেছে।
আরাফাত যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক মো. সাগর হোসেনের ছেলে। বর্তমানে সে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ/সাবেক পিজি হাসপাতাল)-এ চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর চিকিৎসকেরা আরাফাতের হার্ট ও ফুসফুসে টিউমার শনাক্ত করেন। উন্নত চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নিয়মিত ওষুধ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা দরিদ্র পরিবারটির পক্ষে এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি সাগর হোসেন প্রতিদিন ভ্যান চালিয়ে কোনোমতে পরিবারের ভরণপোষণ করেন। ছেলের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে ধার-দেনা করে সর্বস্ব ব্যয় করেছেন। অর্থাভাবে এখন আরাফাতের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে সাগর হোসেন বলেন, “আমার ছেলেকে বাঁচাতে যা ছিল সব খরচ করেছি। এখন আর কোনো সামর্থ্য নেই। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের কাছে আমার আকুল আবেদন—আপনারা আমার সন্তানের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। আপনাদের সামান্য সহযোগিতাই আমার ছেলেকে নতুন জীবন দিতে পারে।”
আরাফাতের অসুস্থতার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যেও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তারা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি শিশুটির চিকিৎসায় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মানবতার এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সবাই এগিয়ে এলে একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে। আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি আরাফাতের দ্রুত সুস্থতা কামনায় সকলের কাছে দোয়ার আবেদন জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
যোগাযোগ ও আর্থিক সহায়তা যোগাযোগ
শহিদ হোসেন (আরাফাতের চাচা)
বিকাশ/নগদ: 01790-860869