তিন সেতুর উদ্বোধনে যশোরে যোগাযোগের নতুন দিগন্ত, ঘুচল দীর্ঘদিনের ভোগান্তি
দৈনিক যশোরের সংবাদ ডেস্ক:
প্রকাশের সময় :
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬
৪৬
বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার যশোর
যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ও দেয়াড়া ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে নবনির্মিত তিনটি সেতু আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। নতুন এসব সেতু চালু হওয়ায় স্থানীয়দের যাতায়াত সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হওয়ার পাশাপাশি এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেতু তিনটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় মোট ৬৫ লাখ ২৪ হাজার ৫৫০ টাকা ব্যয়ে সেতু তিনটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তালবাড়ীয়া শান্তি মোড়-মধ্যপাড়া খালের ওপর একটি এবং তরফদারপাড়া থেকে আড়াপাড়া সড়কের ওপর আরেকটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এছাড়া দেয়াড়া ইউনিয়নের নারাঙ্গালী থেকে ফুলবাড়িয়া যাওয়ার পথে গোডাঙ্গা খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে তৃতীয় সেতুটি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে খাল পারাপার ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন সেতুগুলো চালু হওয়ায় সেই ভোগান্তির অবসান ঘটেছে।
এখন কৃষকেরা সহজেই তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছে দিতে পারবেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত হবে আরও নির্বিঘ্ন। ফলে এলাকার কৃষি, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহরিয়ার হক, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নবনির্মিত এই তিনটি সেতু শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, বরং গ্রামীণ জনপদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।