
নিজস্ব প্রতিবেদক, মোঃ জুম্মান হোসেনঃ
যশোরে পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূ ছামিনা আক্তার ওরফে সাম্মি (২৪) হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী সুজনের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আদালত চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে অভিযুক্ত সুজনকে আদালতে হাজির করা হলে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা আদালত চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা ‘খুনি সুজনের ফাঁসি চাই’, ‘ছামিনা হত্যার বিচার চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ অভিযুক্ত সুজনকে লক্ষ্য করে ডিম ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আদালত প্রাঙ্গণে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ছামিনাকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং অভিযুক্ত সুজনের সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন নারীকে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এমন জঘন্য ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে। তাই অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) তানিম হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত সুজন নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করে গুরুতর আহত হন। তাকে পুলিশি পাহারায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য গত সোমবার (৮ জুন) ভোরে যশোর শহরের শেখহাটি তামালতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নেশার টাকার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে সুজন ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রী ছামিনা আক্তারকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছামিনাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।