1. admin@dailyjessorersangbad.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে খুলনা রেঞ্জের ২৮ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার যশোরে ১৫ টাকা কেজির সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, ডিলারের কাগজপত্র জব্দ বাঘারপাড়ায় পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনের মামলায় আসামি গ্রেপ্তার যশোরে গভীর রাতে বাড়িতে প্রবেশ, আহত অবস্থায় হাসপাতালে আটক ব্যক্তি যশোরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য যুব সমাবেশর মধ্য দিয়ে পালিত।  চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ এর শেষ রক্ষা হলো না, অবশেষে বদলি।  নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, কাজী বাবুল।  যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করতে কেশবপুরে প্রস্তুতি সভা যশোরের চৌগাছায় শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সৎ বাবা গ্রেফতার। যশোরের দায়তলা কালীমন্দির পরিদর্শনে ইউএনও শাহরিয়ার হক ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ যশোর টাউন হল মাঠে ২৭ অক্টোবর পবিত্র আজিমুশশান ইসলামী জলসা

আপোষের নামে প্রতারণা; যশোরে এসআই মিনারা পারভীনের বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ

দৈনিক যশোরের সংবাদ ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৭৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

কল্যান রায় জয়ন্ত :

যশোর কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিনারা পারভীনের বিরুদ্ধে আসামী আটক না করার আশ্বাস দিয়ে দফায় দফায় অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি ও তার স্বামী মিলে এক ধরনের ‘ঘুষ বাণিজ্য’ চালিয়েছেন এবং টাকা নেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত আসামীকে গ্রেপ্তার করেছেন।
জানা যায়, যশোর সদরের কামালপুর গ্রামের বাসুদেব বিশ্বাসের মেয়ে এবং কিশোর বিশ্বাসের ছেলে তন্ময় বিশ্বাস প্রেমের সম্পর্কের জেরে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি ও মামলা (নং-৪৯) দায়ের করা হয়। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় তিনজনকে আসামী করে আদালতে আরও একটি অপহরণ মামলা (নং-১২৬/২০২৬) করা হয়।

মামলার তদন্তভার পান এসআই মিনারা পারভীন। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই তিনি আসামীদের গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি শুরু করেন। এ কাজে তার স্বামী, যিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত (জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন), সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, ঈদুল ফিতরের আগে যশোর শহরের মুজিব সড়কে আসামীপক্ষকে ডেকে ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন এসআই মিনারা পারভীন। জনৈক ইমরান হোসেনের উপস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হলেও পরে বিভিন্ন কৌশলে শহরের নাথ কম্পিউটারের সামনের গলিতে ডেকে আরও ১৫ হাজার টাকা নেন এসআই মিনারা পারভীন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে আপোষ-মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ‘বিপ্লব’ নামে এক রাইটারের মাধ্যমে আপোষনামা লিখিয়ে তা এফিডেভিট করান তিনি। অভিযোগ রয়েছে, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুম খানকে দেওয়ার কথা বলে মধ্যস্থতাকারী ইমরান হোসেন ও সুব্রত বিশ্বাসের মাধ্যমে আরও ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন তিনি। এরপরও আরও টাকা দাবি করা হলে আসামীপক্ষ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এর জের ধরে গত ১১ এপ্রিল বিকেলে মামলার ১ নম্বর আসামী তন্ময় বিশ্বাসকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা থানায় গিয়ে প্রতিবাদ জানালে এসআই মিনারা পারভীন ইমরান হোসেনের এক পরিচিত ব্যক্তির কাছে ১০ হাজার টাকা ফেরত দেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী কিশোর বিশ্বাস বলেন, আমার ছেলেকে আটক না করার জন্য এসআই মিনারা পারভীনের কথামতো টাকা দিয়েছি। পরে প্রতিপক্ষের সাথে আতাত করে আরও টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় আপোষ হওয়ার পরও আমার ছেলেকে আটক করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা সুব্রত বিশ্বাস জানান, আমরা আমাদের ভাইপোকে বাঁচাতে মুজিব সড়ক, রেলরোডসহ বিভিন্ন স্থানে কয়েক দফায় টাকা দিয়েছি। কিন্তু টাকা নিয়েও তিনি বেইমানি করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মিনারা পারভীন প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, টাকা নিয়েছিলাম, তবে পরে ফেরত দিয়েছি। আপনারা চাইলে নিউজ করতে পারেন। টাকা নেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি শপিং করার জন্য টাকা নিয়েছিলাম। তিনি আরও জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানার পর তাকে কেশবপুর থানায় বদলি করা হয়েছে।

কোতয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল আক্তার বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত নই। তবে আপনারা লিখলে আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। একটি ছবি পাওয়ার ভিত্তিতে তাকে ইতোমধ্যে কেশবপুর থানায় বদলি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তিনি অফিসিয়াল কাজে বাইরে ছিলেন।

অভিযোগের এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহল মনে করছে, পুলিশের দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের অনিয়ম শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করছে না, বরং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথও বাধাগ্রস্ত করছে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক যশোরের সংবাদ
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park