
যশোর প্রতিনিধি।
যশোরে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পুরাতন লোহা ও মোটর পার্টস ব্যবসায়ী মালিক সমিতির ত্রি-বার্ষিক কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে মোঃ সাইদুর রহমান সাহিদ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে হাসিবুল হাসান রনি বিজয়ী হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মোট ২৫১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মার্কেট এলাকাজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। প্রার্থী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মাহাবুবুর রহমান মজনু ও সদস্য সচিব লিয়াকত আলীর তত্ত্বাবধানে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
ভোট গণনা শেষে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে মোঃ সাইদুর রহমান সাহিদ ১৩৭ ভোট পেয়ে ৩০ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোঃ শহিদুল ইসলাম চেয়ার প্রতীক নিয়ে লড়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে হাসিবুল হাসান রনি ১৩৮ ভোট পেয়ে ৩৪ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন।
সহ-সভাপতি পদে পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে ছাতা প্রতীক নিয়ে রাসেল শেখ ১০৩ ভোট এবং মো: হযরত আলী গোলাপ ফুল প্রতীক নিয়ে ৮৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে হাত প্রতীক নিয়ে মোঃ বাবুল হোসেন ১২৩ ভোট পেয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে ২৩ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোমবাতি প্রতীক নিয়ে মফিজুর রহমান ১৩১ ভোট এবং প্রচার সম্পাদক পদে টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে মোঃ কামরুজ্জামান ১২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এছাড়া কোষাধ্যক্ষ পদে তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ফুটবল প্রতীক নিয়ে মো: রবিউল ইসলাম ছোট্ট ৯৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন।
কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে চারজন নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন— মোঃ আরিফ শেখ (টিউবওয়েল প্রতীক, ১৩৯ ভোট), মোঃ সাইদুল ইসলাম বাবু (আম প্রতীক, ১৩৪ ভোট), মোঃ সোহেল (রিক্সা প্রতীক, ১২০ ভোট) এবং মোঃ আজিজুল ইসলাম (কোদাল প্রতীক, ১০৮ ভোট)।
ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থী ও সমর্থকদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। মিষ্টি বিতরণ ও উল্লাসে মেতে ওঠেন সাধারণ ব্যবসায়ীরাও। নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ সাধারণ ব্যবসায়ীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, সব ভেদাভেদ ভুলে সমিতির ঐক্য বজায় রাখা, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং মার্কেটের সার্বিক উন্নয়নে তারা আগামী তিন বছর অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।