1. admin@dailyjessorersangbad.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে খুলনা রেঞ্জের ২৮ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার যশোরে ১৫ টাকা কেজির সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, ডিলারের কাগজপত্র জব্দ বাঘারপাড়ায় পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনের মামলায় আসামি গ্রেপ্তার যশোরে গভীর রাতে বাড়িতে প্রবেশ, আহত অবস্থায় হাসপাতালে আটক ব্যক্তি যশোরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য যুব সমাবেশর মধ্য দিয়ে পালিত।  চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ এর শেষ রক্ষা হলো না, অবশেষে বদলি।  নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, কাজী বাবুল।  যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করতে কেশবপুরে প্রস্তুতি সভা যশোরের চৌগাছায় শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সৎ বাবা গ্রেফতার। যশোরের দায়তলা কালীমন্দির পরিদর্শনে ইউএনও শাহরিয়ার হক ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ যশোর টাউন হল মাঠে ২৭ অক্টোবর পবিত্র আজিমুশশান ইসলামী জলসা

মনিরামপুরে অবৈধ মৎস্য ঘের বন্ধে কঠোর অবস্থানে ভূমি কর্মকর্তা মাহির দায়ান আমিন

দৈনিক যশোরের সংবাদ ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ১২৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে স্বস্তি কৃষকদের মাঝে

মনিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ
মনিরামপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনের হস্তক্ষেপে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ১৩ নম্বর খানপুর ইউনিয়নের শালিখার বিলে কৃষিজমি নষ্ট করে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে অবৈধভাবে মৎস্য ঘের নির্মাণের অভিযোগ সামনে এসেছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শালিখার বিল এলাকায় রাস্তার পূর্ব পাশে দুটি পুরাতন ঘের এবং পশ্চিম পাশে আরও দুটি নতুন ঘের খনন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পানি নিষ্কাশনের জন্য নামমাত্র একটি ক্যানেল রাখা হলেও ক্যানেলের মুখ সংকুচিত ও উঁচু করে বাঁধ দেওয়ায় পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারছে না। ফলে আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ধান চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই বিলে ধান চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে নিজেদের জমি মাছের ঘেরের জন্য লিজ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘের ব্যবসায়ী এম. এ. হালিম বিভিন্ন কৃষকের সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণামূলকভাবে ঘের সম্প্রসারণের চেষ্টা করছেন।

জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৫ মার্চ থেকে ২০২৭ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য কিছু কৃষিজমি আপোষ ও চুক্তিনামার ভিত্তিতে লিজ দেওয়া হয়েছিল। ওই চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, জমির মালিক ছাড়া অন্য কেউ ঘেরের মালিক হতে পারবেন না এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হলে ঘের বিলুপ্ত করে পুনরায় ধান চাষাবাদ চালু করা হবে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, পরবর্তীতে কিছু কৃষকের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে নতুন শর্ত সংযোজন করা হয়েছে। নতুন ওই শর্তে মাছ চাষের সুবিধার্থে কৃষিজমিতে প্রয়োজনীয় গর্ত করার অনুমতি রাখা হয়েছে, যা কৃষিজমি সংরক্ষণ সংক্রান্ত সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, নতুন করে ঘের নির্মাণ অব্যাহত থাকলে বসতবাড়ি ও পার্শ্ববর্তী ফসলি জমিতে আরও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সংঘর্ষের আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানান তারা।

এদিকে গোপালপুর, বাগডাঙ্গা ও পাড়িয়ালি গ্রামের কয়েকজন জমির মালিকও একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়গুলো নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী ও জমির মালিকরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত, অবৈধ ঘের নির্মাণ বন্ধ এবং কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বিষয়টি জানতে পেরে মনিরামপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে নজরদারি জোরদার করেন এবং কৃষিজমিতে নতুন করে মাছের ঘের খননের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এলাকাবাসী জানান, কৃষিজমি রক্ষায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনের সাহসী ও জনবান্ধব ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার। তার এমন পদক্ষেপে কৃষকদের মধ্যে আস্থা ও আশার সঞ্চার হয়েছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক যশোরের সংবাদ
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park