যশোর প্রতিনিধি।
যশোরের শার্শা উপজেলায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামিকে ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে শুক্রবার ভোরে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া রাব্বি ইসলাম (২০) উপজেলার ফুলসর গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর উপজেলার সন্ন্যাসগাছা গ্রামের বাসিন্দা সোনিয়া বেগম (৩৮) গত ১৪ মে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস (১৭)কে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ২টা ৪৭ মিনিট থেকে রাত ৪টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এবং পরদিন ২১ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ৩টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সময়ে শার্শা থানাধীন স্বরূপদাহ গ্রামের একটি বাড়ির শয়নকক্ষে ওই কিশোরীকে ডেকে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয়।
পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী কিশোরী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। সামাজিক লজ্জা, ভয়ভীতি ও পারিবারিক চাপের কারণে বিষয়টি এতদিন প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। পরে মেয়ের কাছ থেকে পুরো ঘটনা জানতে পেরে তার মা আইনের আশ্রয় নেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর শার্শা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে যশোরের পুলিশ সুপার দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।
এরপর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেনের নেতৃত্বে এসআই শেখ আল আমিনসহ পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাতভর অভিযান চালায়। একপর্যায়ে শুক্রবার সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ফুলসর এলাকা থেকে রাব্বি ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।