নাসির উদ্দিন নাসিম :-
দরিদ্রের ঘরের টিন থেকে দুর্ঘটনায় চিকিৎসা, মসজিদ-মাদ্রাসায় সহায়তা—মানবিক কর্মকাণ্ডের স্মৃতি নিয়ে আলোচনায়।
যশোর সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে পরিচিত হয়ে ওঠা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইয়ারুল সাহেবের বদলির খবরে হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে আবেগ ও মন খারাপের কথা উঠে এসেছে। যাঁদের দুঃসময়ে তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে, তাঁর বদলিতে তাঁদের অনেকেই কষ্ট অনুভব করছেন বলে জানা গেছে।
দরিদ্র মানুষের ঘর মেরামতের জন্য টিনের ব্যবস্থা, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় সহায়তা এবং মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরছেন স্থানীয়রা। তাঁদের কাছে এসব সহায়তা শুধু আর্থিক সহযোগিতা নয়, বরং বিপদের সময়ে পাশে কাউকে পাওয়ার ভরসা।
যশোর সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি অসহায় মানুষের প্রয়োজনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তাঁর কর্মজীবনের আলোচনায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে মানবিক সেবার গুরুত্বকে সামনে এনেছে।
স্থানীয়দের আবেগের প্রতিফলন হিসেবে বলা হচ্ছে, “ইয়ারুল সাহেবের বদলিতে আমাদের মতো অসহায় মানুষের কষ্ট হচ্ছে। বিপদে-আপদে তাঁর কাছে সহযোগিতা চাওয়ার যে ভরসা ছিল, সেই জায়গাটি আর আগের মতো থাকবে কি না—তা নিয়ে আমরা চিন্তিত।”
সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি চাকরির স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। তবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা মানবিক সম্পর্ক অনেক সময় কর্মস্থল ছাড়ার পরও স্মরণীয় হয়ে থাকে। ইয়ারুল সাহেবের ক্ষেত্রেও স্থানীয় মানুষের আলোচনায় সেই মানবিক সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসছে।
যশোর সদর উপজেলার অসহায় মানুষের প্রত্যাশা, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে আন্তরিক ভূমিকা রাখবেন।
মানুষের কল্যাণে কাজের স্মৃতি থেকে যায়—কর্মস্থল বদলালেও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্কের মূল্য কমে না।