স্টাফ রিপোর্টার :
যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা এলাকায় প্রকাশ্যেই ভৈরব নদের পাড় দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছে একটি অসাধু চক্র। বেশ কয়েকদিন ধরেই তারা এ নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অবাক করার বিষয় হচ্ছে, যশোরের জেলা প্রশাসন যখন অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে সরকারি জমি রক্ষায় মাঠে নেমেছে, ঠিক সে সময় প্রকাশ্যেই এমন কর্মকাণ্ডে হতবাক হয়েছেন শহরবাসী।
শুধু তাই নয়, চক্রটি রীতিমতো জেলা প্রশাসকের নাম ভাঙাচ্ছে। প্রচার করা হচ্ছে, জেলা প্রশাসক নিজেই এ স্থাপনার উদ্বোধন করবেন। দেখানো হচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি চিঠিও। তাতে উঠে এসেছে, এ দখলের প্রধান হিসেবে রয়েছেন যশোরের শেখহাটির আলোচিত মাহাবুব ইসলাম মধু। ভেজাল মধু বিক্রির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যেই তিনি ভৈরব নদের পাড় দখল করে এ কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছেন।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে দড়াটানা ব্রিজের পাশের ঘটনাস্থলে গেলে উঠে আসে এ চিত্র। দেখা যায়, নদীতে বাঁধানো হয়েছে সিঁড়ি। পাশেই তৈরি করা হয়েছে একটি ঘর। বিষয়টি তদারকি করছেন সাংবাদিক পরিচয়ধারী মিলন নামের এক ব্যক্তি।এ সময় কী হচ্ছে এবং কারা করছেন—এমন প্রশ্ন তুলতেই বাধে বিপত্তি। ছুটে আসেন স্থানীয়রা। শুরু হয় তর্কাতর্কি। এক পর্যায়ে তোপের মুখে পড়েন মিলন। স্থানীয়দের তিনি জানান, যশোরের এক প্রভাবশালী সাংবাদিক নেতার কাছ থেকে নদীতে স্পিডবোট চালানোর অনুমতি পেয়েছেন তারা। এ সময় একটি চিঠিও দেখানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যশোরের শেখহাটির ‘বিসমিল্লাহ মধু ট্রেডিং’-এর মালিক মাহাবুব ইসলাম মধুকে নদীর কচুরিপানা পরিষ্কার করে স্পিডবোট ও ট্রলার চালানোর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে দুই মাসের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ঢাকা রোড ব্রিজ থেকে কাঠালতলা ব্রিজ পর্যন্ত নদীর অংশ ব্যবহার করতে পারবেন। ১১ জানুয়ারি অনুমোদিত এ আদেশটি দুই মাস পর বাতিল বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ আরও এক মাস আগেই শেষ হয়েছে অনুমোদনের মেয়াদ।
মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কেন এমন কার্যক্রম চলছে—এ প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে পারেননি মিলন। পরে তার ‘সাংবাদিক বড় ভাই’ আসবেন বলে সেখান থেকে সটকে পড়েন তিনি।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওই জায়গাটি এক সময় দখলে ছিল। পরে নদী খননের সময় তা দখলমুক্ত করা হয়। এছাড়া নদীর পাড় দিয়ে বাইপাস সড়ক হওয়ার কথা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আবারও দখলের ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
এ বিষয়ে মাহাবুব ইসলাম মধু তিনি বলেন বৈধ ভাবেই নদীর পাড়ে এ স্থাপনা তৈরি করেছেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক নেতাও জানেন। সেখান থেকে স্পিডবোট নদীতে নামানো হবে এবং দ্রুতই উদ্বোধন করা হবে,
আরে ভাই জ্বালাতন করছেন কেন, টাকা থাকলে সব হয়।
এ বিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসান জানান, নদীর জমি দখল করে স্থাপনা তৈরির কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের কোনো অনুমতিও দেওয়া হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, শর্তসাপেক্ষে দুই মাসের জন্য শুধুমাত্র কচুরিপানা পরিষ্কার ও স্পিডবোট চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সিঁড়ি বা কোনো স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এছাড়া ওই অনুমতির মেয়াদও এখন শেষ। বিষয়টি নিয়ে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।