নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর। মোঃ জুম্মান হোসেন
যশোরে এক ব্যবসায়ী তাঁর সাবেক স্ত্রীর পরিবারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগ করেছেন। তবে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রোববার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম নাইচ।
লিখিত বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম বলেন, দুই লাখ টাকার কাবিনসংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁর সাবেক স্ত্রী, সাবেক শাশুড়িসহ কয়েকজন তাঁর কাছে ৩০ লাখ টাকা দাবি করছেন। দাবি করা অর্থ না দিলে মাদক বা অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা এবং তাঁর সন্তানকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রফিকুল ইসলামের দাবি, তাঁর মালিকানাধীন একটি ফ্ল্যাট জোরপূর্বক দখল করে রাখা হয়েছে। ফ্ল্যাটটি ফেরত চাইলে ৩০ লাখ টাকা পরিশোধের শর্ত দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় সন্তানের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এসব কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না বলে জানান।
তিনি জানান, এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে তিনি ইতিমধ্যে দুইবার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এ ছাড়া গত ২০ জুলাই জেলা জজ আদালতে আবেদন করলে আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে রফিকুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, গত ১ জুলাই তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। পরে ১৩ জুলাই তাঁর ওপর আবারও হামলার চেষ্টা করা হয় এবং একই দিনে বড়বাজারে তাঁর বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলা হয়। তাঁর দাবি, ১৫ থেকে ২০ জন বহিরাগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে তাঁকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
চাঁদা দাবির পেছনে পারিবারিক বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে রফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর সাবেক স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের দাবি, ব্যবসা, ফ্ল্যাট ও স্বর্ণালংকার কেনার জন্য তাঁরা অর্থ দিয়েছেন। তবে তিনি এ দাবি অস্বীকার করে বলেন, ব্যাংক থেকে ৪৯ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং ফ্ল্যাট কিনেছেন। এ–সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাঁর কাছে রয়েছে বলেও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাবেক স্ত্রী লামিয়া ইসলাম, শ্যালিকা রেবেকা ইসলাম ও শাশুড়ি সারা বানুসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে রফিকুল ইসলামের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম, যশোর জেলা ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মঙ্গল শিকদার, সাধারণ সম্পাদক আদনান রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কংকন কুণ্ডু, সদস্য রায়হান ইসলাম, আবু সাঈদ, আমিরুল ইসলামসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমের কর্মীরা তার বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত লামিয়া ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।