মোঃ জুম্মান হোসেন স্টাফ রিপোর্টার যশোর
যশোরে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আদালতের নির্দেশে কারাগারে রয়েছেন যশোর সরকারি মহিলা কলেজের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের শিক্ষক বাবুল হোসেন বাবু। তবে পরিবারের দাবি, জমি-সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধের জেরে প্রতিবেশীদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক মহলের একাংশও এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুন যশোর কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা একটি নাশকতার মামলায় (মামলা নম্বর-৭৩) বাবুল হোসেনকে আসামি করা হয়। মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(২)/২৫(ডি) এবং দণ্ডবিধির ১৪৩/৪২৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বসুন্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়। গত ৩০ জুন পুলিশ তাঁকে আদালতে সোপর্দ করলে আদালতের আদেশে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
শিক্ষক বাবুল হোসেনের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি যশোর সদর উপজেলার হামিদপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাঁর পরিবারের জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলছিল।
বাবুল হোসেনের বাবা জালাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন,আমার ছেলে সম্পূর্ণ নির্দোষ। প্রতিবেশীদের সাথে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কিছুদিন আগে আমাদের মারধর ও হয়রানি করা হয়েছিল। এরপর থেকেই আমাদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল। সেই শত্রুতার ধারাবাহিকতাতেই পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে এই রাজনৈতিক নাশকতার মামলায় জড়ানো হয়েছে। ওর কারাবাসে পুরো পরিবার এখন চরম মানসিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আমরা সঠিক তদন্ত ও ওর দ্রুত মুক্তি চাই।
এদিকে একজন সরকারি কলেজের শিক্ষক নাশকতার মামলায় জড়ানো ও কারাগারে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকাবাসীর একটি বড় অংশ বাবুল হোসেনের মুক্তির দাবি তুলেছেন। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক কার্যালয় ভাঙচুরের মতো ঘটনায় একজন শিক্ষকের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন।
এ বিষয়ে যশোর বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পের সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মোঃ মোফাক্কেল হোসেন বলেন, ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে
মামলার আসামের পক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন প্রক্রিয়ায় চলছে।