যশোর প্রতিনিধি: মোঃ জুম্মান হোসেনঃ
যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের দত্তপাড়া এলাকায় দুই শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে দত্তপাড়া নূরানী মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষক আনিচুর রহমান (৩২) দত্তপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি ওই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে মাদ্রাসায় পড়াশোনার সময় দুই শিশুশিক্ষার্থীর মধ্যে মারামারি হলে শিক্ষক আনিচুর রহমান তাদের শাসন করতে চড় মারেন। এ ঘটনার জেরে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে দুই শিশুর শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুক্রবার একদল লোক মাদ্রাসার ভেতরে তাকে আটক করে মারধর করে বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে। আহত অবস্থায় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে পুলিশ তাকে সঙ্গে করে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ভুক্তভোগীর চাচা শ্বশুর দাবি করেন, মাদ্রাসাটি উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে আসছিল। তার অভিযোগ, ওই পক্ষের সঙ্গে পারিবারিক ও স্থানীয় বিরোধও রয়েছে। ঘটনার দিন তারা মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র, জানালা ও অন্যান্য সামগ্রী ভাঙচুর করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিভিন্ন দিক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।