যশোর প্রতিনিধি:
যশোরে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ অভিযানে একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা গাড়ি চোর চক্রের চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গাড়ি চুরি করে এনে তা কেটে খণ্ড-বিখণ্ড করে যন্ত্রাংশ হিসেবে বিক্রি করত এই চক্রটি।
গত রোববার (৭ জুন) দুপুরে বাঘারপাড়া উপজেলার তেলিধান্যপুরা এলাকার একটি ফার্ম হাউজে অভিযান চালিয়ে প্রথম তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ সোমবার (৮ জুন) ভোরে কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে চক্রের আরেক সদস্যকে আটক করে ডিবি পুলিশ।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন বাঘারপাড়া থানার খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের এসআই ফিরোজ হোসেনের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম খাজুরা তেল পাম্পের সামনে অবস্থান করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, তেলিধান্যপুরা গ্রামস্থ দিশা স্কুলের সামনে মাগুরা হাইওয়ে সংলগ্ন সিরাজুল ইসলামের ফার্ম হাউজের প্রাচীরের ভেতর একটি চক্র চোরাই ট্রাক কেটে বিভিন্ন অংশ আলাদা করছে।
সংবাদের ভিত্তিতে দুপুর পৌনে ৩টার দিকে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় হাতেনাতে তিনজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন— কোতোয়ালী থানার বাহাদুরপুরের (বর্তমানে ভেকুটিয়া স্কুলপাড়া) মৃত ইদ্রিস মিয়ার ছেলে মোঃ জামাল হোসেন (৪১), বকচর হুশতলার মৃত মিলন তালুকদারের ছেলে সেতু তালুকদার (২৮) এবং কমলাপুর দক্ষিণ পাড়ার মৃত রজব আলীর ছেলে মোঃ এনামুল (৪৮)।
অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে একটি চোরাই মিনি ড্রাম ট্রাক, একটি মাহিন্দ্রা পিকআপ এবং ট্রাক কেটে ফেলা বিভিন্ন অংশ ও গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা এসব গাড়ির কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রাকসহ নানা ধরনের গাড়ি চুরি করে তারা এই নির্জন ফার্ম হাউজে নিয়ে আসত। এরপর গ্যাস সিলিন্ডারের সাহায্যে গাড়ির বডি কেটে বিভিন্ন পার্টস বানিয়ে শহরের বিভিন্ন দোকানে ও ভাঙ্গারি বাজারে বিক্রি করত।
এই ঘটনায় বাঘারপাড়া থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই সালাউদ্দিন খানকে। তিনি মামলার সূত্র ধরে আজ সোমবার (৮ জুন) ভোর ৪টার দিকে কোতোয়ালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের অন্যতম সহযোগী ও বকচর হুশতলা এলাকার হাসান শিকদারের ছেলে মোঃ হামজা (২৫)-কে আটক করেন।
ডিবি পুলিশ জানায়, আজ সোমবার দুপুরে আটককৃত চার আসামিকে যশোর বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। এদের মধ্যে সেতু তালুকদার, মোঃ এনামুল ও মোঃ হামজা চুরির ঘটনার সাথে নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততা ও দোষ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য পলাতক সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।