প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ২, ২০২৬, ১:৩৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১১:৫৯ পি.এম

মনিরামপুর প্রতিনিধি
মনিরামপুর খেদাপাড়া ৪ ভাই এন্টারপ্রাইজ’
এর স্বত্বাধিকারী রাজু আহমেদের প্রতিষ্ঠানে গত শনিবার দুপুর বেলা ৪০০ বস্তা ইউরিয়া সার, পাঠানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় চালান ও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার মনিরামপুর খেদাপাড়া চার ভাই এন্টারপ্রাইজে প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, ৪ ভাই এন্টারপ্রাইজের প্রতিষ্ঠানে আগে থেকেই প্রায় ৩০০ বস্তা সার মজুদ ছিল। এর মধ্যে নেহালপুর ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের নামে আরও ২০ টন, অর্থাৎ ৪০০ বস্তা বিসিআইসি ইউরিয়া সার এনে মজুদ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একটি প্রতিষ্ঠানের নামে উত্তোলন করা সার অন্য প্রতিষ্ঠানে কী প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে, এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চালান ও কাগজপত্র ছিল কি না এবং সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ৪ ভাই এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রাজু আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মনিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার জুনায়েদ সাহেব ও বিসিআইসি র উপ-সহকারী কর্মকর্তা দর্পন তাকে সারগুলো নিতে বলেছিলেন।
রাজু আহমেদ বলেন, “আমার এলাকায় ব্যবসায়ী হিসেবে ভালো পরিচিতি ও সুনাম রয়েছে। ব্যবসায়িক প্রয়োজন বিবেচনা করেই আমি সারগুলো গ্রহণ করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “সার নেওয়ার সময় আমি দুই দিন পর টাকা পরিশোধ করার কথা জানিয়েছিলাম। এরপরও সংশ্লিষ্টরা আমাকে সার দিয়েছেন।মনিরামপুর বি সি আইসির উপ-সহকারী কর্মকর্তা দর্পনের পরামর্শ অনুযায়ী এবং তাদের দেওয়া সার হিসেবেই আমি তা গ্রহণ করেছি। এখানে আমার পক্ষ থেকে কোনো অনিয়ম করার উদ্দেশ্য ছিল না।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা জানান, কোনো এলাকায় বা কোনো ব্যবসায়ীর সারের সংকট দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী অফিস বা সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছ থেকে কিছু পরিমাণ সার নিয়ে এক ইউনিয়ন থেকে আরেক ইউনিয়নে ডিলারকে সহযোগিতা করতে পারে। করার সুযোগ থাকতে পারে।
তাও সেটার পরিমাণ ১০ থেকে ২০ বস্তা বা ২৫ বস্তা হতে পারে, তারমানে ২০ টন অথবা ৪০০ বস্তা এরকম কোন বিষয় আমার জানা নাই।
তিনি বলেন, “কোনো এলাকায় বা ব্যবসায়ীর সারের সংকট হলে সে কিছু পরিমাণ সার অফিস থেকে বা ডিলারের কাছ থেকে নিয়ে বিক্রি করতে পারেন। তবে একসঙ্গে ৪০০ বস্তা সার নেওয়ার কোন সুযোগ নেই।
এদিকে বিসিআইসি সার গুদাম, যশোর অফিসের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, কোনো এলাকায় সারের জরুরি প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমিত পরিমাণে, যেমন ১০ থেকে ২০ বস্তা সার নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে একসঙ্গে ৪০০ বস্তা সার নেওয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়।
ফলে নেহালপুর ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের নামে উত্তোলন করা ২০ টন বা ৪০০ বস্তা ইউরিয়া সার কী প্রক্রিয়ায় ৪ ভাই এন্টারপ্রাইজে মনিরামপুর কৃষি কর্মকর্তা ও বিসিআইসির উপসহকারী দর্পণ সাহেব কিভাবে পাঠালেন তা নিয়ে জনগণের মনে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে কিভাবে একটি ঘরে ৩০০ বস্তা সার মজুদ থাকা সত্ত্বেও আবার ২০ টন ৪০০ বস্তা সার কিভাবে দেন
অনুমোদনে তা দেওয়া হয়েছে।
এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চালান ও সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী কর্মকর্তা দর্পনের বক্তব্য জানাতে চাইলে তিনি বলেন মনিরামপুর কৃষি কর্মকর্তা জুনায়েদ সাহেব এর সাথে আপনারা কথা বলেন।
সার বিতরণ ও মজুদের ক্ষেত্রে কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে জনগণ জানিয়েছেন।