জাহিদ হাসান মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধিঃ
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ১৩ নম্বর খানপুর ইউনিয়নের ১৫৭ নম্বর খানপুর মৌজার শালিখার বিল এলাকায় কৃষিজমি খনন করে মাছের ঘের তৈরির অভিযোগ উঠেছে এম এ হালিমের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি নোটিশ দিয়ে খনন কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনও তার পক্ষে কিছু ব্যক্তি ঘের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত এম এ হালিম ঘের খননের উদ্বোধন উপলক্ষে বিরিয়ানির আয়োজন করেন এবং বিভিন্ন এলাকার সহজ-সরল কৃষক, জমির মালিক ও কিছু অর্থলোভী ব্যক্তিকে সেখানে জড়ো করার চেষ্টা করেন। তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এ ঘটনায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গোপালপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে এম এ হালিমকে কৃষিজমিতে খনন কার্যক্রম বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) বিকেলে ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাহিরঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এম এ হালিম (পিতা: মৃত হাজী নওশের আলী সরদার) প্রশাসনের লিখিত অনুমতি ছাড়াই কৃষি শ্রেণির আবাদযোগ্য জমিতে মাটি কাটার প্রস্তুতি ও খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।
গোপালপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা অনিন্দ্য সরকার স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়, জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া কৃষিজমির মাটি কর্তন, খনন ও অপসারণ করা ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ এবং ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
নোটিশে আরও বলা হয়, নোটিশ জারির ১৫ মিনিটের মধ্যে খনন কাজে ব্যবহৃত সব যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নোটিশের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষিজমি রক্ষায় যারা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, পূর্বেও কৃষিজমি রক্ষায় সোচ্চার কয়েকজন কৃষককে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এমনকি নিজের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে কৃষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে এম এ হালিমের বিরুদ্ধে।
এলাকাবাসী আরও জানান, সরকারি নোটিশে ঘের খনন বন্ধ ঘোষণা করার পরও এম এ হালিমের পক্ষে কিছু ভাড়া করা লোক ও অর্থলোভী জমির মালিক গোপনে ঘের তৈরির চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।