স্টাফ রিপোর্টার, যশোর
যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের পূর্ব পান্তাপাড়া গ্রামে দীর্ঘদিনের জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আঃ কাদের মিয়া (৬০) নামে এক ব্যক্তির পথরোধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ৬০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, রাতের নির্জন রাস্তায় ৪/৫ জন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় হঠাৎ একটি মোটরসাইকেল ঘটনাস্থলের কাছাকাছি চলে আসায় তিনি তাদের হাত থেকে রক্ষা পান।
এ ঘটনায় আঃ কাদের মিয়া গত ১৪ আগস্ট যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ৩/৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিরা হলেন—পূর্ব পান্তাপাড়া গ্রামের মৃত রোস্তম বিশ্বাসের ছেলে মোঃ আনোয়ার হোসেন (৩৮), বাহির মল্লিক গ্রামের গোলাম রসুলের ছেলে মিজান ওরফে কালো মিজান (৪০), পান্তাপাড়া গ্রামের মৃত ইসলাম মোড়লের ছেলে ডায়মন্ড মোড়ল (৪৫) এবং পূর্ব পান্তাপাড়া গ্রামের মৃত রোস্তম বিশ্বাসের ছেলে মোঃ মশিয়ার রহমান (৩৫)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আঃ কাদের মিয়ার সঙ্গে তার আপন ভাইপো মোঃ আনোয়ার হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কাদের মিয়া।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিরোধটি শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে লিখিতভাবে আপস-মীমাংসা হয়। তবে পরবর্তীতে ওই মীমাংসার শর্ত উপেক্ষা করে আনোয়ার হোসেন জমি দখলের উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজির মামলা করেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। পরে মামলাটি খারিজ হয়ে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কাদের মিয়ার অভিযোগ, আনোয়ার হোসেন প্রায় ২০/২৫ দিন আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর পুনরায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ১৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রাজমিস্ত্রির কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে কুয়াদা বাজার থেকে বাজার নিয়ে সতীঘাটা পুরাতন বাজার হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন কাদের মিয়া। পথে চৌঘাটা রোডের আয়ুবের ঘেরসংলগ্ন ব্রিজের কাছে পৌঁছালে মিজান ওরফে কালো মিজান, ডায়মন্ড মোড়লসহ আরও কয়েকজন তার পথরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
কাদেরের দাবি, তারা তাকে টানাহেঁচড়া করে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেন। একপর্যায়ে তাকে বলা হয়, আনোয়ার হোসেনের জমি ফিরিয়ে দিতে হবে, অথবা নগদ ৬০ হাজার টাকা দিতে হবে। অন্যথায় তার বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় কাদের মিয়া আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। হঠাৎ ওই রাস্তা দিয়ে সেলিম নামে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলে তিনি তার সহায়তা চান। পরে সেলিম তাকে কথিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বলে জানিয়েছেন কাদের মিয়া। ভবিষ্যতে তাকে পথরোধ, মারধর, অপহরণের চেষ্টা কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এ ঘটনায় অভিযোগটি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন আঃ কাদের মিয়া।
তবে অভিযোগে উত্থাপিত এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ আনোয়ার হোসেন, মিজান ওরফে কালো মিজান, ডায়মন্ড মোড়ল ও মোঃ মশিয়ার রহমানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশের তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।