চয়ন কুমার রায়, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি:
দেশের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ সেচ প্রকল্প ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন করেছেন সরকারের তিন মন্ত্রী। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে লালমনিরহাট ও নীলফামারীর মধ্যবর্তী তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় পৌঁছান পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা তিস্তা ব্যারেজ এবং এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে তারা তিস্তা অবসর হলরুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
সভায় তিস্তা অববাহিকার দীর্ঘদিনের নদীভাঙন সমস্যা, টেকসই বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীশাসন কার্যক্রম এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।
পরিদর্শন ও আলোচনা সভায় লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন শেষে তিস্তা নদীর তীরে স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য দেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা লালমনিরহাটে এসেছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পাবে বলে আমরা আশাবাদী।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে আমরা বদ্ধপরিকর। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাব। আপনাদের আর কিছুটা সময় দিতে হবে। ইনশাআল্লাহ, তিস্তা অঞ্চলের উন্নয়নে এই পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয়দের মতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটবে।